ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​একই গাছে আলু-টমেটো : বীরগঞ্জে কৃষিতে অভিনব চমক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০৬ ২৩:১৬:৪৫
​একই গাছে আলু-টমেটো : বীরগঞ্জে কৃষিতে অভিনব চমক ​একই গাছে আলু-টমেটো : বীরগঞ্জে কৃষিতে অভিনব চমক

মাহাবুর রহমান আঙ্গুর, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

একই গাছে মাটির নিচে আলু আর ডালে ঝুলছে টসটসে লাল-সবুজ টমেটো শুনতে অবাক লাগলেও দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এমনই এক অভিনব কৃষি উদ্যোগ বাস্তব রূপ পেয়েছে। গ্রাফটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ব্যতিক্রমী চাষে সফল হয়েছেন উদ্ভিদপ্রেমী শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র কীর্তনীয়া।

বীরগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বসুন্ধরা এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদ বাগানে টবে পরীক্ষামূলকভাবে তিনি গড়ে তুলেছেন এই “পোমাটো” বা “টমালু” গাছ। একদিকে মাটির নিচে আলু, অন্যদিকে উপরে টমেটো একই গাছে দুই ফসলের এমন সমন্বয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রনজিৎ চন্দ্র কীর্তনীয়া পেশায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। ছোটবেলা থেকেই কৃষি ও উদ্ভিদ নিয়ে তার গভীর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময়ই তিনি গ্রাফটিংসহ আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

কর্মজীবনের ব্যস্ততার ফাঁকেও নিজের ছাদ বাগানকে তিনি বানিয়েছেন গবেষণাগার। সেখানে নিয়মিত নতুন নতুন কৃষি পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান। এরই ধারাবাহিকতায় টমেটো ও আলু গাছের সফল গ্রাফটিং করে তৈরি করেছেন পোমাটো গাছ।

তিনি জানান, একই গোত্রভুক্ত দুটি উদ্ভিদকে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে যুক্ত করলে একটি নতুন ধরনের সমন্বিত গাছ তৈরি করা যায়। আলু ও টমেটো একই পরিবারের হওয়ায় এদের সংযুক্তি সহজ হয়। ফলে একই গাছ থেকে দুই ধরনের ফসল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

তার মতে, দেশে ক্রমেই আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে আসছে। এই বাস্তবতায় সীমিত জায়গায় অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া একই গাছে দুই ফসল হওয়ায় খরচ কমে এবং পরিচর্যাও তুলনামূলক সহজ হয়।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আলু ও টমেটো একই উদ্ভিদ পরিবারের হওয়ায় গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে এ ধরনের গাছ তৈরি করা সম্ভব। এতে মাটির নিচে আলু এবং উপরের অংশে টমেটো উৎপাদন হয়। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির এ প্রয়োগ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনায় এই পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং এটি ভবিষ্যতে কৃষির একটি কার্যকর মডেল হয়ে উঠতে পারে।
রনজিৎ চন্দ্র কীর্তনীয়ার এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয় এটি দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। সীমিত সম্পদে বেশি উৎপাদনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ